সরাসরি মূল কনটেন্টে যান

প্রবন্ধ

Hajj

হজ্জে প্রচলিত কিছু ভুল আমল

কিছু প্রচলিত আমল ও রীতি রয়েছে, যেগুলোকে অনেকে হজ্জের অংশ বা বিশেষ ইবাদত মনে করেন, অথচ সেগুলোর নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই।

Editorial Team · পড়তে ২ মিনিট · ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হজ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই হজ্জের প্রতিটি আমল কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী পালন করা জরুরি। এর পাশাপাশি এমন কিছু প্রচলিত আমল ও রীতি রয়েছে, যেগুলোকে অনেকে হজ্জের অংশ বা বিশেষ ইবাদত মনে করেন, অথচ সেগুলোর নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই।

হজ্জে যাওয়ার আগে এসব বিষয়ে জেনে রাখা জরুরি, যাতে অজ্ঞতাবশত এমন কোনো আমলে জড়িয়ে না পড়ি যা রাসূলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে প্রমাণিত নয়।

প্রচলিত কিছু ভুল ও অনুচিত আমল

১. বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সূরা আলে ইমরানের শেষাংশ, আয়াতুল কুরসি, সূরা কদর বা সূরা ফাতিহা নির্দিষ্টভাবে পাঠ করা।

২. প্রত্যেকবার কোনো স্থানে অবতরণ করলে দুই রাকাত সালাত আদায় করা।

৩. বিমানবন্দর, হাজী ক্যাম্প বা নির্দিষ্ট কোনো স্থান থেকে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া শুরু করা, যদিও মীকাতের বিধান ভিন্ন।

৪. তান‘ঈম বা জি‘ইরানাহ থেকে ইহরাম বেঁধে বারবার উমরাহ করা।

৫. তাওয়াফে কুদূম ছাড়া অন্য সময়ও ইযতিবা করা।

৬. সম্মিলিতভাবে একসঙ্গে তালবিয়া পাঠ করা।

৭. তালবিয়া অপ্রয়োজনীয়ভাবে নিচু স্বরে পাঠ করা।

৮. বাড়ি, হাজী ক্যাম্প বা বিমানবন্দর থেকেই হজ্জের তালবিয়া পাঠ শুরু করা।

৯. হজ্জ বা উমরাহর সময় মসজিদুল হারামে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দরজাকে বাধ্যতামূলক মনে করা।

১০. তাওয়াফের প্রতিটি চক্করের জন্য আলাদা আলাদা নির্দিষ্ট দোয়া আবশ্যক মনে করা।

১১. তাওয়াফে কুদূমের প্রথম তিন চক্করে রমল না করা অথবা সাত চক্করেই রমল করা।

১২. শুধু তাওয়াফ করার উদ্দেশ্যে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করে তাহিয়াতুল মসজিদকে আলাদা আমল হিসেবে নির্ধারণ করা।

১৩. রুকনে ইয়ামানী চুম্বন করা।

১৪. হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা চুম্বনের সময় নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পাঠ করা।

১৫. রুকনে ইরাকি ও রুকনে শামি স্পর্শ করা।

১৬. রুকনে ইয়ামানীর দিকে ইশারা করে তাকবির বলা।

১৭. হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার সময় দুহাত উঁচু করে বিশেষ ভঙ্গিতে তাকবির বলা।

১৮. বরকতের আশায় কাবার গিলাফ ধরে দোয়া করা বা কান্নাকাটি করা।

১৯. তাওয়াফের সময় সম্মিলিতভাবে দোয়া পাঠ করা।

২০. মাকামে ইবরাহিমের কাছে দীর্ঘ সময় ধরে বিশেষভাবে দোয়া করা।

২১. বিদায়ী তাওয়াফ শেষে কাবার দিকে মুখ করে পিছন দিকে হেঁটে বের হয়ে আসা।

২২. বরকতের আশায় কাবার গিলাফের ধুলা টুপি, পাগড়ি বা কাপড়ে লাগিয়ে নিয়ে আসা।

২৩. সাঈয়ের প্রতিটি চক্করের জন্য নির্দিষ্ট দোয়া আবশ্যক মনে করা।

২৪. কংকর নিক্ষেপের আগে বিশেষভাবে গোসল করা।

২৫. আরাফার ময়দানে যোহর ও আসরের সালাত একসঙ্গে ও কসর করা থেকে বিরত থাকা।

২৬. জাবালে রহমতের চূড়ায় উঠে বিশেষভাবে সালাত আদায় করা বা পাহাড় স্পর্শ করা।

২৭. আরাফাত ও মুযদালিফার মধ্যবর্তী কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বিশেষভাবে সালাত আদায় করা।

২৮. মুযদালিফায় মাগরিব ও এশার ফরজের সঙ্গে আলাদা করে সুন্নাত সালাত আদায় করা।

২৯. মুযদালিফায় মাগরিব ও এশার সালাত একসঙ্গে আদায় না করা অথবা এশার সালাত কসর না করা।

৩০. তাওয়াফ, মুযদালিফায় অবস্থান বা কংকর নিক্ষেপের আগে বিশেষভাবে গোসল করাকে আবশ্যক বা নির্দিষ্ট সুন্নাহ মনে করা।

জেনে, শিখে হজ্জ করুন

হজ্জের সময় চারপাশে অনেক ধরনের আমল দেখতে পাওয়া যায়। কোনো একজন হাজীকে কিছু করতে দেখে সেটিকে হজ্জের অংশ মনে করা ঠিক নয়।

তাই হজ্জে যাওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য আলেমদের কাছ থেকে হজ্জের সঠিক নিয়মকানুন শিখে নিন। কোনটি সুন্নাহ, কোনটি মুস্তাহাব, কোনটি বৈধ এবং কোনটি শরিয়তসম্মত নয়, তা জানা একজন হাজীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।