সরাসরি মূল কনটেন্টে যান

গাইড

প্রশ্নোত্তর

হজ্জ, উমরাহ ও ইবাদত নিয়ে হাজীদের সবচেয়ে বেশি করা প্রশ্নের সহজ উত্তর।

ক্যাটাগরি

সব

141
  • মিকাত হলো সেই নির্ধারিত সীমানা, যেখান থেকে হজ বা উমরাহর নিয়ত করে ইহরাম বাঁধতে হয়। মিকাত অতিক্রম করার আগেই ইহরাম বাঁধা জরুরি। বাংলাদেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য সাধারণত ইয়ালামলাম মিকাত হিসেবে নির্ধারিত।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ইহরাম হলো হজ ও উমরাহ পালনের জন্য নির্দিষ্ট একটি বিশেষ অবস্থা, যা নিয়ত ও তালবিয়ার মাধ্যমে শুরু হয়। ইহরাম অবস্থায় কিছু কাজ নিষিদ্ধ হয়ে যায় — যেমন সেলাই করা পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, চুল ও নখ কাটা।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • কাবা শরীফকে হাজরে আসওয়াদ বরাবর থেকে শুরু করে সাতবার প্রদক্ষিণ করাকে তাওয়াফ বলা হয়। প্রতিটি চক্কর হাজরে আসওয়াদ বরাবর শুরু হয় এবং সেখানেই শেষ হয়। তাওয়াফের সময় কাবা বাম পাশে থাকে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • সাফা পাহাড় থেকে শুরু করে মারওয়া পর্যন্ত সাতবার যাওয়া-আসাকে সাঈ বলা হয়। সাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত যাওয়া এক চক্কর, আবার মারওয়া থেকে সাফা পর্যন্ত ফিরে আসা আরেক চক্কর হিসেবে গণ্য হয়। সাঈ শেষ হয় মারওয়ায়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • উমরাহ বছরের যেকোনো সময় আদায় করা যায়, হজের নির্দিষ্ট দিনগুলো ছাড়া। রমজান মাসে উমরাহ আদায়ের ফজিলত বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ১টি। সেটি হলো কাবাঘর তাওয়াফ করা। আর উমরার শর্ত হলো ইহরাম বাঁধা। তবে কেউ কেউ বলেছেন উমরার রুকন তিনটি। যথাঃ

    (১) ইহরাম বাঁধা।

    (২) তাওয়াফ করা

    (৩) সাঈ করা।

    উল্লেখ্য যে, এ রুকনগুলোই উমরার ফরয।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ৩ প্রকার, যথাঃ

    1. তামাত্তু

    2. কেরান

    3. ইফরাদ

    প্রথমতঃ ‘তামাত্তু’ হল হজ্জের সময় প্রথমে উমরা করে হালাল হয়ে ইহরামের কাপড় বদলিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা। এর কিছু দিন পর আবার মক্কা থেকেই ইহরাম বেধে হজ্জের আহকাম পালন করা।

    দ্বিতীয়তঃ ‘কিরান’ হল উমরা ও হজ্জের মাঝখানে হালাল না হওয়া এবং ইহরামের কাপড় না খোলা। একই ইহরামে আবার হজ্জ সম্পাদন করা।

    তৃতীয়তঃ ‘ইফরাদ’ হল উমরা করা ছাড়াই শুধুমাত্র হজ্জ করা।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • প্রথমতঃ আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশ। তিনি বলেনঃ

    وَلِلَّهِ على الناس حج البيت من استطاع إليه سبيلا

    অর্থঃ মানুষের মধ্যে যার সামর্থ আছে আল্লাহর জন্য ঐ ঘরে হজ্জ করা তার উপর অবশ্য কর্তব্য।

    দ্বিতীয়তঃ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস। তিনি বলেনঃ

    (ক) ইসলামের ভিত্তি হয়েছে ৫টি স্তম্ভের উপর :

    (১) আল্লাহ ছাড়া কোন মা‘বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল এ সাক্ষ্য দেয়া,

    (২) সালাত আদায় করা,

    (৩) যাকাত দেয়া,

    (৪) রমজান মাসে সিয়াম পালন করা এবং

    (৫) বায়তুল্লাহ শরীফে হজ্জ পালন করা। (বুখারী)

    (খ) হে মানুষেরা! আল্লাহ তোমাদের উপর হজ্জ ফরয করেছেন। কাজেই তোমরা হজ্জ পালন কর। (মুসলিম)

    (সূরা আলে ইমরানঃ ৯৭)

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ৩টি, সেগুলো হলঃ

    (১) ইহরামের কাপড় পরে উমরার নিয়ত করার কাজটি মীকাত পার হওয়ার আগেই করা।

    (২) ‘সাফা ও মারওয়া’ এ দু’টি পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে সাঈ করা। কিছু আলেম একে রুকন অর্থাৎ ফরয বলেছেন।

    (৩) চুল কাটা (মাথার চুল মুণ্ডানো বা ছোট করা)।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • হানাফী ও মালেকী মাযহাবে উমরা করা সুন্নাত। আর শাফী ও হাম্বলী মাযহাবে উমরা করা ফরয। অর্থাৎ যার উপর হজ্জ ফরয তার উপর উমরাও ফরয।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • উমরা বৎসরের যেকোন মাস, যে কোন দিন ও যে কোন রাতে করা যায়। তবে ইমাম আবু হানীফার মতে আরাফাতের দিন, কুরবানীর দিন এবং আইয়ামে তাশরীকের তিন দিন উমরা করা মাকরূহ।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ৯টি, সেগুলো হলঃ

    (১) সাঈ করা। (অনেকের মতে এটা হজ্জের রুকন।)

    (২) ইহরাম বাঁধার কাজটি মীকাত পার হওয়ার পূর্বেই সম্পন্ন করা।

    (৩) আরাফাতে অবস্থান সূর্যাস্ত পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা।

    (৪) মুযদালিফায় রাত্রি যাপন।

    (৫) মুযদালিফার পর কমপক্ষে দুই রাত্রি মিনায় যাপন করা।

    (৬) কঙ্কর নিক্ষেপ করা।

    (৭) হাদী (পশু) জবাই করা (তামাত্তু ও কেরান হাজীদের জন্য।)

    (৮) চুল কাটা।

    (৯) বিদায়ী তাওয়াফ।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • যে কোন কারণেই হোক উপরে বর্ণিত কোন একটি ওয়াজিব ছুটে গেলে দম (অর্থাৎ পশু জবাই) দেয়া ওয়াজিব হয়ে যায়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • হজ্জের সুন্নত অনেক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

    (১) ইহরামের পূর্বে গোসল করা

    (২) পুরুষদের সাদা রঙের ইহরামের কাপড় পরিধান করা।

    (৩) তালবিয়াহ পাঠ করা

    (৪) ৮ই যিলহজ্জ দিবাগত রাত মিনায় অবস্থান করা

    (৫) ছোট ও মধ্যম জামারায় কংকর নিক্ষেপের পর দু‘আ করা

    (৬) কেরান ও ইফরাদ হাজীদের তাওয়াফে কুদূম করা।

    তবে কোন কারণে সুন্নত ছুটে গেলে দম দিতে হয় না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • প্রথমতঃ আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশ। তিনি বলেনঃ

    وَلِلَّهِ على الناس حج البيت من استطاع إليه سبيلا

    অর্থঃ মানুষের মধ্যে যার সামর্থ আছে আল্লাহর জন্য ঐ ঘরে হজ্জ করা তার উপর অবশ্য কর্তব্য।

    দ্বিতীয়তঃ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস। তিনি বলেনঃ

    (ক) ইসলামের ভিত্তি হয়েছে ৫টি স্তম্ভের উপর :

    (১) আল্লাহ ছাড়া কোন মা‘বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল এ সাক্ষ্য দেয়া,

    (২) সালাত আদায় করা,

    (৩) যাকাত দেয়া,

    (৪) রমজান মাসে সিয়াম পালন করা এবং

    (৫) বায়তুল্লাহ শরীফে হজ্জ পালন করা। (বুখারী)

    (খ) হে মানুষেরা! আল্লাহ তোমাদের উপর হজ্জ ফরয করেছেন। কাজেই তোমরা হজ্জ পালন কর। (মুসলিম)

    (সূরা আলে ইমরানঃ ৯৭)

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • নিম্ন বর্ণিত শর্তগুলোর সবকটি পূরণ হলে হজ্জ ফরয হয়ঃ

    (১) মুসলমান হওয়া। অমুসলিম অবস্থায় কোন ইবাদাত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না।

    (২) বালেগ হওয়া।

    (৩) আকল-বুদ্ধি থাকা। অর্থাৎ অজ্ঞান ও পাগলের কোন ইবাদাত হয় না।

    (৪) আর্থিক ও শারীরিক সক্ষমতা থাকা। আর্থিক সক্ষমতার অর্থ হলো হজ্জের খরচ বহন করার পর তার পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে যাওয়ার মত সম্পদ ও সক্ষমতা থাকতে হবে। শারীরিক সুস্থতার সাথে তার যানবাহনের সুবিধা, পথের নিরাপত্তা থাকা এবং মহিলা হলে তার সাথে মাহ্‌রাম পুরুষ থাকা এসবও সক্ষমতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এর কোন একটির ব্যাঘাত ঘটলে হজ্জ ফরয হবে না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • সাথে সাথেই হজ্জ আদায় করতে হবে। দেরী করা উচিৎ নয়। কারণ, যে কোন সময় বিপদাপদ এমন কি মৃত্যু এসে যেতে পারে। অধিকাংশ ওলামাদের মত এটাই।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • কাবা শরীফ গমনকারীদেরকে কাবা হতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্বে থেকে ইহরাম বাঁধতে হয়, যে স্থানগুলো নবীজির হাদীস দ্বারা নির্ধারিত আছে। ঐ জায়গাগুলোকে মীকাত বলা হয়। হারাম শরীফের চর্তুদিকেই মীকাত রয়েছে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ২ প্রকারঃ

    (ক) সময়ের মীকাত,

    (খ) স্থানের মীকাত। হজ্জের জন্য সময়ের মীকাত হল শাওয়াল, যিলকদ এবং যিলহজ্জ মাস। অনেকের মতে শাওয়াল মাস থেকে যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিন পর্যন্ত এ সময়গুলোকে হজ্জের মাস বলা হয়। অপরদিকে উমরার সময় হল বছরের যে কোন মাস, দিন ও রাত।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ৫টি মীকাত।

    ১। মদ্বীনাবাসীদের জন্য যুল হুলাইফা ذو الحليفة

    ২। সিরিয়াবাসীদের জন্য আল-জুহফা الجحفة

    ৩। নজদবাসীদের জন্য কারনুল মানাযিল قرن المنازل

    ৪। ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম يلملم

    ৫। ইরাকবাসীদের জন্য যাতুইরক ذات عرق

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • বর্ণিত ৫ টি মীকাতের সীমানার ভিতরে যারা বসবাস করে যেমন জেদ্দা, বাহরা, তায়েফ, শরাইয় ও মক্কার মধ্যবর্তী এলাকার বাসিন্দাগণ বা চাকুরীরত বিদেশীরা হজ্জের জন্য তাদের নিজেদের ঘর থেকেই ইহরাম বাধবে। তাদেরকে মীকাতে যেতে হবে না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • হজ্জের ইহরাম হলে নিজ নিজ ঘর থেকে, আর উমরার ইহরাম হলে মসজিদে তানয়ীমে যাবে অথবা হারামের হুদুদের (সীমানার) বাইরে যে কোন স্থানে গিয়ে বাঁধবে। মক্কায় চাকরীরত বিদেশীরাও তাই করবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • নখ কাটা, গোফ খাট করা, বোগল ও নাভির নীচের চুল কামানো ও তা পরিষ্কার করা। তবে ইহরামের পূর্বে পুরুষ ও মহিলাদের মাথার চুল কাটার বিষয়ে কোন বিধান পাওয়া যায় না। উল্লেখ্য যে, দাড়ি কোন অবস্থায়ই কাটা যাবে না। নখণ্ডচুল কাটার পর গোসল করাও মুস্তাহাব।

    وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمِ الأَظْفَارِ وَنَتْفِ الإبِطِ وَحَلْقِ الْعَانَةِ أَنْ لاَ نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً

    গোঁফ ছোট করা, নখ কাটা, বগল পরিষ্কার করা এবং নাভির নীচের লোম পরিষ্কার করার কাজগুলোকে ৪০ রাতের বেশি সময় অতিক্রম না করার জন্য আমাদেরকে সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। (মুসলিম ২৫৮)

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • মাথায়, দাড়িতে ও সারা শরীরে মাখা যায়। ইহরাম পরিধানের পর যদি এর সুগন্ধ শরীরে থেকে যায় তাতে কোন অসুবিধা নেই। মনে রাখতে হবে, মেয়েরা সুগন্ধি লাগাবে না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • চাদরের মত দু’টুকরা কাপড় একটি নীচে পরবে। দ্বিতীয়টি গায়ে দিবে। কাপড়গুলো সেলাইবিহীন হতে হবে। পরিচ্ছন্ন ও সাদা রং হওয়া মুস্তাহাব। ৩য় আর কোন প্রকার কাপড় গায়ে রাখা যাবে না। যেমন টুপি, গেঞ্জি, জাইঙ্গা বা তাবীজ কিছুই না। তবে শীত নিবারণের জন্য চাদর ও কম্বল ব্যবহার করতে পারবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • মেয়েদের ইহরামের জন্য বিশেষ কোন পোষাক নেই। মেয়েরা সাধারণতঃ যে কাপড় পরে থাকে সেটাই তাদের ইহরাম। তারা নিজ ইচ্ছা মোতাবেক ঢিলেঢালা ও শালীন পোষাক পরবে। তবে যেন পুরুষের পোষাকের মত না হয়। এটা কাল, সবুজ বা অন্য যে কোন রঙের হতে পারে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ৩টি যথাঃ

    (১) মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধা।

    (২) সেলাইবিহীন কাপড় পরিধান করা।

    (৩) তালবিয়াহ পাঠ করা। অর্থাৎ নিয়ত করার পর তালবিয়াহ পাঠ করা ওয়াজিব।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • না। নিকাব ও হাতমোজা এ অবস্থায় পরবে না। তবে ভিন্ন পুরুষ সামনে এলে মুখ আড়াল করে রাখবে। অর্থাৎ নিকাব ছাড়া ওড়না বা অন্য কোন কাপড় দ্বারা মুখমণ্ডল ঢাকার অনুমতি আছে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • তারা পরিচ্ছন্ন হবে, গোসল করবে, ইহরাম পরবে। কিন্তু হায়েয-নেফাস অবস্থায় নামায পড়বে না এবং কাবাঘর তাওয়াফ করবে না। বাকী অন্যসব কাজ করবে। এরপর যখন পবিত্র হবে তখন অজু-গোসল করে তাওয়াফ ও সাঈ করবে। যদি ইহরামের পর হায়েয শুরু হয় তখনো কাবা তাওয়াফ করবে না যতক্ষণ পবিত্র না হয়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • পায়ের গোড়ালী ঢেকে রাখে এমন কোন জুতা পরা যাবে না। কাপড়ের মোজাও পরবে না। তবে সেন্ডেল পরতে পারে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • নামাযসহ অন্যান্য সকল ইবাদাতের নিয়ত করতে হয় মনে ইচ্ছা পোষণ করে। তবে ইহরামের সময় মুখে শুধু হজ্জ বা উমরা শব্দ উচ্চারণ করতে হয়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • তালবিয়াহ পাঠ শুরু করবেন, আর তা-

    (ক) বেশী বেশী পড়বেন।

    (খ) উচ্চস্বরে পড়বেন।

    (গ) তবে মেয়েরা পড়বে নীচু স্বরে, যাতে সে কেবল নিজে শুনতে পায়।

    (ঘ) বেশী বেশী যিকর আয্কার করতে থাকবে।

    (ঙ) কিবলামুখী হয়ে তালবিয়াহ পড়া উত্তম, তাছাড়া উচু থেকে নীচে নামা ও নিচু থেকে উঁচু স্থানে উঠার সময়ও তালবিয়াহ পাঠ করা সুন্নাত।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ - لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ ু إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ - لاَ شَرِيكَ لَكَ

    অর্থঃ হাজির হয়েছি হে আল্লাহ! তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে আমি হাজির হয়েছি। আমি হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি তোমার কোন শরীক নাই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা ও নেয়ামাত তোমারই এবং রাজত্বও। তোমার কোন শরীক নেই।

    لَبَّيْكَ = হাজির হয়েছি, اللَّهُمَّ = হে আল্লাহ, لاَ شَرِيكَ=কোন শরীক নাই, لَكَ=তোমার إِنَّ=নিশ্চয়, الْحَمْدَ=সকল প্রশংসা, النِّعْمَةَ=নেয়ামত, الْمُلْكَ=রাজত্ব।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ইহরামের কাপড় পরার পর যখনই নিয়ত করা শেষ করবেন তখন থেকে তালবিয়াহ পাঠ শুরু করবেন, আর শেষ করবেন হারাম শরীফে পৌঁছে তাওয়াফ শুরুর পূর্বক্ষণে। আর হজ্জের বেলায় ১০ই যিলহজ্জে বড় জামরায় কংকর নিক্ষেপের পূর্ব পর্যন্ত তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকবেন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • নিষিদ্ধ কাজগুলো নিম্নরূপঃ

    (১) চুল উঠানো বা কাটা, হাত ও পায়ের নখ কাটা। তবে শরীর চুলকানোর সময় ভুলে বা অজ্ঞাতসারে যদি কিছু চুল পড়ে যায় তাতে অসুবিধা নেই।

    (২) ইহরাম বাঁধার পর সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না।

    (৩) স্ত্রী সহবাস, যৌনক্রিয়া বা উত্তেজনার সাথে স্ত্রীর দিকে তাকানো, তাকে স্পর্শ করা, চুম্বন করা, মর্দন ও আলিঙ্গন করা বা এ জাতীয় কথা বলা নিষেধ।

    (৪) বিবাহ করা বা দেয়া, এমনকি প্রস্তাব দেওয়াও নিষেধ। চাই নিজের বা অন্যের হোক, উভয়ই নিষেধ

    (৫) স্থলজ প্রাণী শিকার করা বা হত্যা করা নিষিদ্ধ। এতে সহযোগিতা করবেন না। কিন্তু পানির মাছ ধরতে পারবেন। হারামের সীমানার ভিতর প্রাণী শিকার করা ইহরাম বিহীন লোকদের জন্যও নিষেধ।

    (৬) সেলাইযুক্ত কাপড় পরা, এটা করা যাবে না। তবে ঘড়ি, আংটি, চশমা, কানের শ্রবণ যন্ত্র, বেল্ট, মানিব্যাগ ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবেন।

    (৭) মেয়েরা সেলাইযুক্ত কাপড় পরতে পারবে।

    (৮) মাথা ঢেকে রাখা নিষেধ। মুখও ঢাকবে না। ইহরামের কাপড়, পাগড়ী, টুপি তোয়ালে, গামছা বা অন্য কোন কাপড় দিয়েও মাথা ঢেকে রাখা যাবে না। তবে ছাতা, তাবু, গাড়ীর বা ঘরের ছাদের ছায়ার নীচে বসতে পারবেন। ভুলে বা অজ্ঞাতসারে যদি মাথা ঢেকে ফেলে তবে স্মরণ হওয়া মাত্র তা সরিয়ে ফেলতে হবে। মেয়েরা মাথা ঢেকে রাখবে।

    (৯) মহিলারা হাত মোজা পরবে না। নিকাব দিয়ে মুখ ঢাকবে না। পর্দার প্রয়োজন হলে উড়না দিয়ে ঢাকবে।

    (১০) ঝগড়া-ঝাটি করবে না।

    (১১) ইহরাম অবস্থায় থাকুক বা না থাকুক মক্কা শরীফের হারামের সীমানার ভিতরে কেউ এমনিতেই গজিয়ে উঠা কোন গাছ বা সবুজ বৃক্ষলতা কাটতে পারবে না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • এ জন্য কোন দম বা ফিদইয়া দিতে হবে না। স্মরণ হওয়া মাত্র বা অবগত হওয়ার সাথে সাথে এ কাজ থেকে বিরত হয়ে যাবে এবং এজন্য ইস্তেগফার করবে। তবে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হলে হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • না, সুগন্ধওয়ালা সাবান দিয়ে গোসল করা জায়েয নয়, এমনকি হাতও ধুইবে না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • এমনটি ঘটলে ফরয গোসল করে নেবে এবং কাপড় ধুয়ে ফেলবে। এতে হজ্জ বা উমরার কোন ক্ষতি হবে না। এমনকি ফিদইয়াও দিতে হবে না। কারণ স্বপ্নদোষ মানুষের ইচ্ছাধীন কোন ঘটনা নয়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • অধিকাংশ উলামাদের মতে হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে স্বামী স্ত্রীর দু’জনেরই। সে সহবাস আরাফাতে অবস্থানের আগে হোক বা পরে হোক। আর হজ্জ বাতিল হয়ে গেলে পরবর্তী বছর এ হজ্জ কাযা করতে হবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • এ দু'টো এলাকা হারামের সীমানার ভিতরে অবস্থিত। অর্থাৎ হারামের অংশ। কিন্তু আরাফাতের ময়দান হারামের বাহিরে। হারামের সীমানা কাবা ঘর থেকেঃ

    (ক) পূর্ব দিকে ১৬ কিলোমিটার ‘জিরানা’ পর্যন্ত।

    (খ) পশ্চিম দিকে ‘হুদাইবিয়া (শুমাইছী)’ পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার।

    (গ) উত্তর দিকে ৬ কিলোমিটার ‘তানঈম’ পর্যন্ত।

    (ঘ) দক্ষিণ দিকে ১২ কিলোমিটার ‘আদাহ’ পর্যন্ত।

    (ঙ) উত্তর-পূর্ব কোণে ১৪ কিলোমিটার ‘ওয়াদী নাখলা’ পর্যন্ত।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • মসজিদুল হারামে ঢুকে প্রথমে ৭ বার কাবাঘর তাওয়াফ করবেন। এরপর দু’রাকআত নামায শেষে ‘সাফা’ ও ‘মারওয়া’ পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে সাঈ করবেন ৭ বার। সবশেষে চুল কেটে হালাল হয়ে যাবেন, অর্থাৎ ইহরামের কাপড় বদলিয়ে স্বাভাবিক পোষাক পরিধান করবেন। তাওয়াফ, সাঈ ও চুল কাটার বিস্তারিত নিয়ম পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে দেখুন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • কাজগুলো নিম্নরূপঃ

    (১) মক্কায় পৌঁছে সুবিধাজনক কোন স্থানে একটু বিশ্রাম করা যাতে ক্লান্তি দূর হয় এবং শক্তি অর্জিত হয়। তাছাড়া তাওয়াফের পূর্বে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র হওয়া জরুরী। (বুখারী)

    (২) সম্ভব হলে গোসল করে নেয়া মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি করতেন। (বুখারী) সুযোগ না পেলে না-করলেও চলবে। তবে নাপাকী থেকে অবশ্যই পবিত্র হতে হবে।

    (৩) সহজসাধ্য হলে উঁচুভূমি এলাকা দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করাও মুস্তাহাব। (বুখারী) ‘‘বাবুস্ সালাম’’ গেট দিয়ে ঢুকা উত্তম। তা সম্ভব না হলে যে কোন দরজা দিয়ে ঢুকতে পারেন।

    (৪) হারাম শরীফে প্রবেশকালে উত্তম হলো ডান পা আগে দিয়ে ঢুকা এবং নীচের দোয়াটি পড়াঃ

    أَعُوذُ بِاللهِ الْعَظِيمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ بِسْمِ اللهِ وَالصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ عَلٰى رَسُوْلِ اللهِ - اَللَّهُمَّ افْتَحْ لِيْ أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ

    এবং মসজিদে হারাম থেকে বের হওয়ার সময় পড়াঃ

    بِسْمِ اللهِ وَالصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ عَلٰى رَسُوْلِ اللهِ اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ

    এ দোয়াগুলো দুনিয়ার অন্যসব মসজিদেও পড়া সুন্নত।

    (৫) ‘‘মসজিদে হারাম’’এর তাহিয়াহ হল তাওয়াফ করা। আর তাওয়াফের নিয়ত না থাকলে দু’রাকআত সালাত আদায় না করে মসজিদে কখনো বসবেন না। তবে, জামাআত দাঁড়িয়ে গেলে সরাসরি জামাআতে শরীক হয়ে যাবেন।

    (৬) অসুস্থ ও মাযুর ব্যক্তিদের জন্য খাটিয়ায় চড়ে তাওয়াফ বা সাঈ করা জায়েয আছে। (বুখারী)

    (৭) প্রথম তাওয়াফকে ‘তাওয়াফুল কুদুম’

    (طواف القدوم) বা ‘তাওয়াফুল উমরা’ বলে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • হানাফী ফিকহ মতে তাওয়াফের শর্ত ৩টি, যথাঃ

    (১) তাওয়াফের নিয়ত করা,

    (২) তাওয়াফের ৭ চক্র পূর্ণ করা,

    (৩) মসজিদে হারামের ভিতরে থেকে কাবার চারপাশে তাওয়াফ করা।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ৫টি, সেগুলো হলোঃ

    (১) অযূ করা।

    (২) সতর ঢাকা।

    (৩) হাজরে আসওয়াদকে বামপাশে রেখে তাওয়াফ করা।

    (৪) তাওয়াফের পর দু’রাকআত সালাত আদায় করা।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • না, বরং এটা সুন্নাতের খেলাফ।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • এখানে সুন্নাত হল যমযম পান করতে চলে যাওয়া, কিছু পানি মাথায় ঢেলে দেয়া, অতঃপর সম্ভব হলে পুনরায় হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ করা। এরপর সাফা-মারওয়ায় সাঈ করতে চলে যাওয়া। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই করেছেন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • না, এটা কখনো চুম্বন করবেন না। তবে ‘‘রুকনে ইয়ামানী’’ স্পর্শ করা মুস্তাহাব।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • না, শুদ্ধ হবে না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • না। এটা পৃথক ইবাদত।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • না, তাঁরা পবিত্র হয়ে তাওয়াফ করবেন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • সাঈ করে ফেলবে। কারণ সাঈতে পবিত্রতা অর্জন শর্ত নয়, বরং মুস্তাহাব।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • স্বাভাবিক পোষাক পরিধান করেই করবেন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • (ক) হাজারে আসওয়াদের কাছে এসে দু’হাতে ইশারা দেয়। এটা ভুল। শুদ্ধ হলো এক হাতে দেয়া।

    (খ) রুকনে ইয়ামানী হাত দিয়ে ইশারা করে। এটা করা ঠিক নয়।

    (গ) কিছু লোক তাওয়াফের সময় কাবার চার কোণই স্পর্শ করে। এরূপ করতে যাওয়া ঠিক না।

    (ঘ) তাওয়াফের সময় কেউ কেউ কাবাঘর বা এর গেলাফ মুছে। এ মুছার মধ্যে কোন ফযীলত নেই।

    (ঙ) কিছু লোক তাওয়াফের সময় দল বেঁধে যিকর ও দোয়া করে। এটা করবেন না।

    (চ) এক শ্রেণীর লোক বেরিকেড দিয়ে দল বেঁধে তাওয়াফ করে। অন্যদেরকে কষ্ট দিয়ে এভাবে তাওয়াফ করা উচিৎ না।

    (ছ) কেউ কেউ মাকামে ইব্রাহীম চুমু দেয় এবং এটাতে হাত দিয়ে মুছে। এসব ভুল কাজ।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • সাঈ অর্থ দৌড়ানো। কাবার অতি নিকটেই দু’টো ছোট্ট পাহাড় আছে যার একটি ‘সাফা’ ও অপরটির নাম ‘মারওয়া’। এ দু’ পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে মা হাজেরা শিশুপুত্র ইসমাঈল -এর পানির জন্য ছোটাছুটি করেছিলেন। ঠিক এ জায়গাতেই হজ্জ ও উমরা পালনকারীদেরকে দৌড়াতে হয়। শাব্দিক অর্থে দৌড়ানো হলেও পারিভাষিক অর্থে স্বাভাবিক গতিতে চলা। শুধুমাত্র দুই সবুজ পিলার দ্বারা চিহ্নিত মধ্যবর্তী স্থানে সামান্য একটু দৌড়ের গতিতে চলতে হয়। তবে মেয়েরা দৌড়াবে না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • সাঈর কাজটি ওয়াজিব। তবে কেউ কেউ এটা রুকন অর্থাৎ ফরয বলেছেন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • (১) প্রথমে তাওয়াফ এবং পরে সাঈ করা।

    (২) ‘সাফা’ থেকে শুরু করা এবং ‘মারওয়া’য় গিয়ে শেষ করা।

    (৩) ‘সাফা’ ও ‘মারওয়া’র মধ্যবর্তী পূর্ণ দূরত্ব অতিক্রম করা। একটু কম হলে চলবে না।

    (৪) সাত চক্র পূর্ণ করা।

    (৫) সাঈ করার স্থানেই সাঈ করতে হবে। এর পাশ দিয়ে করলে চলবে না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • (ক) অযু অবস্থায় সাঈ করা ও সতর ঢাকা।

    (খ) তাওয়াফ শেষে লম্বা সময় ব্যয় না করে সঙ্গে সঙ্গে সাঈ শুরু করা।

    (গ) সাঈর এক চক্র শেষ হলে লম্বা সময় না থেমে পরবর্তী চক্র শুরু করা।

    (ঘ) দু’টি সবুজ বাতির মধ্যবর্তী স্থানে পুরুষদের একটু দৌড়ানো।

    (ঙ) প্রতি চক্রেই সাফা ও মারওয়া পাহাড় দু’টিতে আরোহণ করা।

    (চ) সাফা ও মারওয়া পাহাড় এবং এর মধ্যবর্তী স্থানে যিক্র ও দোয়া করা।

    (ছ) সক্ষম ব্যক্তির পায়ে হেঁটে সাঈ করা।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • সঙ্গে সঙ্গে জামা‘আতে শরীক হয়ে যাবেন। সালাত শেষে বাকী চক্র পূর্ণ করবেন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • চুলকাটা হজ্জ ও উমরা উভয় ইবাদতের ক্ষেত্রে ওয়াজিব।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • পুরুষরা:

    (১) পুরা মাথা মুন্ডন করবেন অথবা মাথার সব অংশ থেকে চুল ছোট করে কেটে ফেলবেন।

    (২) চুল ছোট করে কাটার চেয়ে মাথা মুন্ডন করার মধ্যে সাওয়াব বেশী। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা মুন্ডনকারীদের জন্য তিনবার রহমত ও মাগফিরাতের দোয়া করেছেন (رحم الله المحلقين)। অপরদিকে যারা চুল খাট করে কেটেছেন তাদের জন্য মাত্র একবার উক্ত দোয়া করেছেন (.... المقصرين)।

    (৩) মাথার কিছু অংশের চুল ছোট করে কাটলে যথেষ্ট হবে না, বরং সমগ্র মাথা থেকে চুল ছোট করে কাটা অত্যাবশ্যক।

    মেয়েদের মাথা মুন্ডনের বিধান নেই। তারা শুধু চুল ছোট করবে।

    মহিলাদের জন্য মাথা মুন্ডনের কোন বিধান নেই। তারা তাদের মাথার চার ভাগের একাংশ চুলের অগ্রভাগ থেকে আঙ্গুলের উপরের গিরার সমপরিমাণ (অর্থাৎ এক ইঞ্চির একটু কম) চুল কেটে দেবে। মেয়েরা এর চেয়ে বেশী পরিমাণ চুল কাটবে না।

    لَيْسَ عَلَى النِّسَاءِ حَلْقٌ إِنَّمَا عَلَى النِّسَاءِ التَّقْصِيرُ

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ইহরাম বেঁধে মিনায় রওয়ানা হওয়া এবং সেখানেই রাত্রি যাপন করা।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • গোসল করা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া ও গায়ে সুগন্ধি মাখা। তবে কুরবানীকারীরা ১লা যিলহজ্জ থেকে কুরবানীর পূর্ব পর্যন্ত চুল-নখ কাটবেন না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • নিজ নিজ ঘর বা বাসস্থান থেকেই ইহরাম বাঁধবেন। মক্কায় অবস্থানকারীরাও নিজ নিজ ঘর থেকে ইহরাম বাঁধবেন। ইফরাদ ও কেরান হাজীগণ যারা আগে থেকেই ইহরাম পরা অবস্থায় আছেন, তাঁরা ইহরাম অবস্থায়ই থাকবেন। ইহরামের পোষাক পরার পর হজ্জের নিয়ত করে ফেলবেন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • হজ্জের জন্য মনে মনে নিয়ত করবেন এবং মুখেও বলবেন لَبَّيْكَ حَجًّا অথবা বলবেন اَللَّهُمَّ لَبَّيْكَ حَجًّا শেষ হলে তালবিয়াহ পড়তে থাকবেন। তালবিয়াহ হলঃ

    لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَু لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ

    অতঃপর দলে দলে মিনার উদ্দেশ্যে চলতে থাকবেন গাড়ীতে হোক বা পায়ে হেঁটে হোক।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • সূর্যোদয়ের পর থেকে যুহরের নামাযের আগেই রওয়ানা দেয়া মুস্তাহাব। অর্থাৎ যুহরের নামাযের আগেই মিনায় চলে যাওয়া উত্তম।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • চার রাকআত বিশিষ্ট ফরয নামাযগুলো দু’রাকআত করে পড়তে হবে। এটাকে কসর করা বলা হয়। সে নামাযগুলো হলো যুহর, আসর ও এশা। হজ্জের সময় মিনা, আরাফা ও মুয্দালিফায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার ভিতরের ও বাইরের সকল লোককে নিয়ে এ সালাতগুলো কসর করে পড়েছিলেন, এটা সুন্নাত। এ ক্ষেত্রে তিনি মুকীম বা মুসাফিরের মধ্যে কোন পার্থক্য করেননি। অর্থাৎ মক্কার লোকদেরকেও চার রাকআত করে পড়তে বলেননি। (ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ও ফাতাওয়া ইবনে বায) তবে মনে রাখতে হবে যে, ফজর ও মাগরিবের ফরয নামায অর্থাৎ দুই এবং তিন রাকআত বিশিষ্ট নামায কখনো কসর হয় না। মিনাতে প্রত্যেক সালাত ওয়াক্তমত আদায় করবেন, জমা করবেন না। অর্থাৎ যুহর-আসর একত্রে এবং মাগরিব-এশা একত্রে পড়বেন না। এমনকি মুসাফির হলেও না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • মিনায় আজকের রাত্রি যাপন মুস্তাহাব বা সুন্নাত। যেহেতু আগামীকাল আরাফার দিন, সেহেতু আজকের রাতকে বলা হয় ‘‘আরাফার রাত’’। এ রাতে সূর্য উদয় হওয়ার আগ পর্যন্ত মিনাতেই অবস্থান করা সুন্নাত।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • (১) ৮ই যিলহজ্জ তারিখে ইহরাম বেঁধে তাওয়াফ ও সাঈ করে মিনায় রওয়ানা দেয় এবং দশ তারিখে তাওয়াফ করে আর সাঈ করে না। এটা ভুল। শুদ্ধ হলো ইহরাম বাঁধার পর তাওয়াফ ছাড়া মিনায় রওয়ানা দেবেন।

    (২) কেউ কেউ সূর্যোদয়ের আগে মিনায় রওয়ানা দেয়। এটাও ভুল।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • এটা হজ্জের রুকন। এটা বাতিল হয়ে গেলে হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে।।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • আজ ৯ই যিলহজ্জ সূর্য উদয় হওয়ার পর আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন। এর আগ পর্যন্ত মিনাতেই অবস্থান করা সুন্নত। রওয়ানা দেয়ার সময় তালবিয়াহ ও কালিমা পড়বেন ও তাকবীর বলতে থাকবেন।

    لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَু لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَুإِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَু لاَ شَرِيكَ لَكَ

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • (১) আরাফায় পৌঁছে মসজিদে ‘নামিরা’র কাছে অবস্থান করা মুস্তাহাব অর্থাৎ উত্তম। সেখানে জায়গা না পেলে আরাফার সীমানার ভিতরে যে কোন স্থানে অবস্থান করতে পারেন। এতে কোন অসুবিধা নেই- (মুসলিম)। তবে পাশেই ‘উরানা’ নামের একটি উপত্যকা আছে। সেটি আরাফার চৌহদ্দির বাইরে। কাজেই সেখানে যাবেন না। ঐখানে অবস্থান করবেন না।

    (২) যুহরের সময় হলে ইমাম সাহেব খুৎবা দেবেন। খুৎবার পর যুহরের ওয়াক্তেই যুহর ও আসরের সালাত একত্রে জমা করে পড়বেন। দু’ নামাযেরই আযান দেবেন একবার, কিন্তু ইকামাত দেবেন দু’বার। কসর করে পড়বেন। অর্থাৎ যুহর দু’রাকআত এবং আসরও দু’রাকআত পড়বেন। যুহরের ওয়াক্তেই আসর পড়ে ফেলবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কাবাসী ও বহিরাগত সব হাজীকে নিয়ে একত্রে এভাবে নামায পড়িয়েছিলেন। এটা সফরের কসর নয়, বরং হজ্জের কসর। কোন নফল-সুন্নাত নামায আরাফায় পড়বেন না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়েননি।

    (৩) মসজিদে নামিরায় যেতে না পারলে নিজ নিজ তাবুতেই উপরে বর্ণিত পদ্ধতিতে জামা‘আতের সাথে যুহর-আসর একত্রে যুহরের আউয়াল ওয়াক্তে দুই দুই রাক‘আত করে কসর ও জমা করে পড়বেন।

    (৪) আরাফার ময়দানের সীমানা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে অবশ্যই আরাফার পরিসীমার ভিতরে অবস্থান করতে হবে। আরাফার সীমানা চিহ্নিত করে চতুষ্পার্শে অনেক পিলার দেয়া আছে। এর বাইরে অবস্থান করলে হজ্জ হবে না।

    (৫) সুন্নাত হলো বেশী বেশী দোয়া করা, দোয়ার সময় হাত উঠানো, অত্যন্ত বিনম্র হওয়া, যিকর করা, তাসবীহ পড়া, ‘আলহাম্দুলিল্লাহ’ ও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়া, তাওবাহ করা, কান্নাকাটি করে গোনাহ মাফ চাওয়া, মাতা-পিতা, স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, দাদা-দাদী, নানা-নানী, আপনজন ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য বেশী বেশী দোয়া করা।

    তাছাড়া নীচের দোয়াটি আরো বেশী বেশী পড়া উত্তমঃ

    لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهচ لاَ شَرِيكَ لَه لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

    এছাড়া নীচের তাসবীহটি বেশী বেশী পড়বেন।

    سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهৃ وَسُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ

    এতদসঙ্গে অন্যান্য মাসনূন দোয়া সূর্যাস্ত পর্যন্ত করতে থাকবেন। সাওয়াব কমে যাবে এমন কোন কাজ করা থেকে সাবধান থাকতে হবে।

    (৬) যখন সূর্য ডুবে যাবে এবং সূর্য অস্ত গিয়েছে এরূপ নিশ্চিত হবেন তখন প্রশান্ত মনে ধীরে সুস্থে মুযদালিফায় রওয়ানা দেবেন। এ সময় বেশী বেশী তালবিয়াহ পড়তে থাকবেন। সাবধান, কোন অবস্থাতেই সূর্যাস্তের আগে আরাফার ময়দান ত্যাগ করা যাবে না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • (১) এ তারিখে দিনের বেলায়ই আল্লাহ তা‘আলা প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হন।

    (২) আল্লাহর কাছে ঐ দিনের চেয়ে উত্তম আর কোন দিন নেই।

    (৩) বান্দাদের জন্য আল্লাহ তাঁর দয়ার ভান্ডার খুলে দেন।

    (৪) সেদিন আল্লাহ বান্দাদের অতি নিকটবর্তী হন।

    (৫) আরাফাতে অবস্থানকারী ও মাশআরুল হারাম- বাসীকে আল্লাহ সেদিন ক্ষমা করে দেন।

    (৬) উমর রাদিআল্লাহু আনহুর প্রশ্নের জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আরাফায় আগমনকারীদের জন্য এ ক্ষমা প্রদর্শন কিয়ামত পর্যন্ত চালু থাকবে।

    (৭) যমীনবাসীদের নিয়ে আল্লাহ ফেরেশতাদের সাথে গৌরব করে বলেন, ‘‘আমার বান্দাদের দিকে তাকিয়ে দেখ তারা ধূলিমলিন অবস্থায় এলোকেশে দূর-দূরান্ত থেকে এসেছে আমার রহমতের আশায়, অথচ আমার আযাব তারা দেখেনি। কাজেই আরাফার দিনে এত অধিক সংখ্যক লোককে জাহান্নাম থেকে আমি মুক্তি দিয়ে দিচ্ছি যা অন্যদিন তারা পায়নি।

    (৮) শয়তান ঐদিন সবচেয়ে বেশী লাঞ্ছিত, হীন ও নিকৃষ্ট বনে যায় এবং তাকে ক্রোধান্বিত দেখা যায়। বান্দাদের দোয়া কবূল ও যিকরের মাধ্যমে শয়তানকে বেদনাবিধুর করে দেয়া হয়।

    (৯) আল্লাহ সেদিন বলেন, এরা কি চায়? অর্থাৎ হাজীরা যা চায় তাই তিনি দিয়ে দেন।

    (১০) সেদিন ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং রহমত বর্ষিত হয়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • আদবগুলো নিম্নরূপঃ

    (১) গোসল করে নেয়া,

    (২) পরিপূর্ণ পবিত্র থাকা,

    (৩) কিবলামুখী হয়ে দোয়া করা ও অন্যান্য তাসবীহ পড়া,

    (৪) দোয়া, তাসবীহ ও তাওবা-ইস্তিগফারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া,

    (৫) নিজের ও অন্যদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে উভয় জাহানের কল্যাণ ও মুক্তি চেয়ে দোয়া করা,

    (৬) দু’হাত উঠিয়ে দোয়া করা,

    (৭) মনকে বিনম্র ও খুশু-খুযু রেখে মুনাজাত করা,

    (৮) দোয়াতে কণ্ঠস্বর নীচু রাখা, উচ্চঃস্বরে দোয়া না করা।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • হাঁ, পারবে। কারণ স্ত্রীসহবাস বা স্বপদোষের কারণে যে নাপাক হয় তা ইচ্ছা করলেই নিমিষের মধ্যে গোসল করে পবিত্র হওয়া যায়। কিন্তু হায়েজ-নিফাস থেকে পবিত্র হওয়া মানুষের ইচ্ছাধীন নয়। বিষয়টি আল্লাহর হাতে এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এজন্য হায়েজ-নিফাসওয়ালী মহিলাদের জন্য কুরআন-হাদীসের এসব দোয়া পড়া জায়েয আছে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • দুপুরে সূর্য পশ্চিমে ঢলার পর থেকে আরাফার প্রকৃত সময় শুরু হয়। তবে ইমাম হাম্বলের মতে সেদিনের সকালের ফজর উদয় হওয়া থেকেই এ সময় শুরু হয়। আর এর শেষ সময় হল আরাফার দিবাগত রাত্রির ফজর উদয় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • দিনে অবস্থানকারীর সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করা।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • হ্যাঁ, হজ্জ শুদ্ধ হবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • না, সেখানে আরোহণ করে ইবাদত ও দোয়া-তাসবীহ পাঠে সাওয়াব বেশী হওয়ার কথা কুরআন-হাদীসে নেই।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • না, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফায় শুধুমাত্র ফরয পড়ে দোয়ায় মনোনিবেশ করেছিলেন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • অন্যান্য হাজীরা যা যা করবে উক্ত মহিলাও তাই করবে। পবিত্র হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শুধুমাত্র নামায পড়বে না এবং কাবা তাওয়াফ করবে না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • হ্যাঁ, শুদ্ধ হবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • হাজীদের যেসব ত্রুটি বিচ্যুতি সাধারণতঃ পরিলক্ষিত হয় সেগুলো নিম্নরূপঃ

    (১) কিছু লোক আরাফার সীমানার বাইরে বসে থাকে। অথচ আরাফার সীমানা চিহ্নিত খুঁটি চতুর্দিকেই দেয়া আছে। এ কাজে হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে।

    (২) কিছু হাজী পাহাড়ে গিয়ে ভীড় জমায়, এর পাথর ছুঁয়ে গায়ে মুছে। এগুলো শির্ক বিদ‘আতের অন্তর্ভুক্ত।

    (৩) কিছু কিছু হাজী অনর্থক কথাবার্তা, গল্পগুজব ও হাসাহাসি করে দোয়া কালাম পড়া থেকে বিরত থেকে মূল্যবান সময় নষ্ট করে হজ্জকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    (৪) আবার কেউ কেউ দোয়ার সময় কেবলামুখী না হয়ে জাবালে রহমত পাহাড় মুখী হয়ে দোয়া করে। অথচ সুন্নাত হলো কাবার দিকে মুখ করে দোয়া করা।

    (৫) আরেকটি বড় ভুল হলো এই যে, কিছু হাজী সূর্য ডুবার আগেই আরাফার ময়দান ছেড়ে চলে যায়। এটা জায়েয নয়।

    (৬) আবার কিছু হাজী ফজরের আগেই মিনা থেকে আরাফায় রওয়ানা দেয়। সুন্নত হলো সূর্যোদয়ের পর রওয়ানা দেয়া।

    (৭) মসজিদে নামিরায় জামাআত না পেলে যুহর-আসর একত্রে না পড়ে পৃথক পৃথক ওয়াক্তে আদায় করে। এটাও ঠিক নয়।

    (৮) আরাফায় যুহর-আসর একত্রে পড়া ও দুই দুই রাক‘আত করে কসর করা জায়েয মনে না করা। এটা ভুল ধারণা।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • সূর্য অস্ত যাওয়ার পর আরাফাতে মাগরিবের নামায না পড়ে মুযদালিফায় রওয়ানা দেবেন। পৌঁছতে দেরী হলেও মাগরিব-এশা মুযদালিফায়ই পড়তে হবে। এ দেরীকে কাযা মনে করবেন না। সেদিনের জন্য এটাই নিয়ম। সেখানে যাওয়ার সময় মোয়াল্লেমের গাড়ীতে বা কয়েকজন মিলে একজনকে গ্রুপ লীডার বানিয়ে তার নেতৃত্বে দল বেঁধে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে পথ চলতে পারেন। পথে যাতে হারিয়ে না যান, কেউ যাতে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়ে, সেজন্য গ্রুপ লীডার একটি বাংলাদেশী পতাকা কাঁধে নিয়ে চলতে পারেন। সেখানেও ভীড় হয়। ভীড়ে হারিয়ে যাওয়া থেকে সতর্ক থাকবেন। সাথে নারী-শিশু থাকলে আরো বেশী সাবধান থাকবেন। ভীড়ের কারণে শোয়ার জন্য খালী ভাল জায়গা অনেক সময় পাওয়া যায় না। টয়লেটেও প্রচুর ভীড় হয়। দেখে-শুনে শোয়ার জায়গা বেছে নেবেন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • এটা ওয়াজিব। এটা করতেই হবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • (১) বিলম্ব হলেও মুযদালিফায় পৌঁছে মাগরিব-এশা পড়তে হবে, এর আগে নয়। তবে এ দুই নামাযকে বিলম্ব করতে করতে অর্ধ রাত্রির পরে নিয়ে যাওয়া জায়েয হবে না। তবে ওযর থাকলে জায়েয।

    (২) তারতীব ঠিক রেখে সালাত আদায় করবেন। অর্থাৎ প্রথম তিন রাক‘আত মাগরিবের ফরজ এবং এর সাথে সাথে দুই রাক‘আত এশার ফরজ আদায় করবেন, বিতর পড়বেন, ফজরের সুন্নাতও বাদ দেবেন না।

    (৩) এ দুই ওয়াক্ত সালাতের জন্য মাত্র একবার আযান দেবেন। কিন্তু ইকামত দুই বারই দিতে হবে।

    (৪) কোন নফল-সুন্নাত নামায নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় পড়েননি। আপনিও পড়বেন না।

    (৫) সালাত আদায় শেষ হওয়া মাত্র ঘুমিয়ে পড়বেন যাতে পরবর্তী দিনের কার্যাবলী সক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা যায়।

    (৬) ঐ দিনের ফজর অন্ধকার থাকতেই আউয়াল ওয়াক্তে পড়ে নেবেন। দুই রাকাত ফরজের সাথে দুই রাকাত সুন্নতও পড়বেন। এরপর ‘‘মাশআরুল হারাম’’-এর নিকটবর্তী কিবলামুখী দাঁড়িয়ে হাত উঠিয়ে দোয়া-মুনাজাত করতে থাকবেন। এখানে আসতে না পারলে অসুবিধা নেই। মুযদালিফার যে কোন স্থানে দাঁড়িয়ে দোয়া করতে পারবেন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ‘‘মাশআরুল হারাম’’ একটি পাহাড়ের নাম। এটি মুযদালিফায় অবস্থিত। এখানে একটি মসজিদও আছে। এখানে হাজীদের যা করণীয় তা হলঃ

    (১) মাশআরুল হারামের নিকট কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো,

    (২) তাকবীর বলা,

    (৩) তাসবীহ-তাহলীল পড়া অর্থাৎ ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহাম্দু লিল্লাহ’ এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ পড়া।

    (৪) যিকর করা এবং

    (৫) প্রাণ খুলে আল্লাহ তা‘আলার কাছে দোয়া করা,

    (৬) খুশু-খুযু ও বিনম্র হয়ে মাবুদের কাছে আপনার যা চাওয়ার আছে তা চেয়ে নেবেন। বিশেষ করে আপনার মাতা-পিতা, স্ত্রী, পুত্র-সন্তানাদি ও আপনজন-আত্মীয়স্বজনের জন্যও দোয়া করবেন।

    (৭) দোয়ার সময় দু’ হাত উঠিয়ে মুনাজাত করা মুস্তাহাব।

    এভাবে ফজরের নামাযের পর থেকে আকাশ ফর্সা হওয়া পর্যন্ত দোয়া করতে থাকা মুস্তাহাব। ভীড়ের কারণে ‘‘মাশআরুল হারাম’’-এর কাছে যেতে না পারলে মুযদালিফার যে কোন স্থানে দাঁড়িয়ে এভাবে দোয়া করবেন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • হ্যাঁ, দুর্বল নারী ও শিশু এবং অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য অর্ধ রাত্রির পর মুযদালিফা থেকে মিনায় চলে যাওয়া জায়েয হবে। দুর্বল ও অসুস্থদের সাহায্যার্থে তাদের সাথে সুস্থ অভিভাবকরাও যেতে পারবে। এরূপ ওযর ছাড়া মুযদালিফায় ফজর আদায় না করে কারো মিনায় চলে যাওয়া ঠিক হবে না। চলে গেলে দম দিতে হবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ‘‘মাশআরুল হারাম’’ থেকে মিনায় যাবার সময় কংকর সংগ্রহ করা যায়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • সুন্নাত হলো প্রথম দিনের ৭টি কংকর মাশআরুল হারাম থেকে রওয়ানা দেয়ার পর মুযদালিফা থেকেই কুড়াবেন। এখান থেকে এর বেশী নয়। আর বাকী ৩ দিনের প্রত্যেক দিনের ২১টি করে কংকর মিনা থেকেই কুড়ানো যায়। এটাই সর্বোত্তম পদ্ধতি। তবে হারামের মধ্যবর্তী যে কোন স্থান থেকেই কংকর কুড়ানো জায়েয আছে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • উঃ- চলার সময় বেশী বেশী লাববাইকা অর্থাৎ তালবিয়াহ ও আল্লাহু আকবার পড়তে থাকবেন। ওয়াদি মুহাস্সির (وادي محسر) নামক স্থানে পৌঁছলে সামান্য দ্রুত গতিতে হাঁটা মুস্তাহাব, যদি অন্য মানুষকে কষ্ট দেয়া ছাড়া এটি করা যায়, তবেই তা করবেন। ‘‘ওয়াদী মুহাস্সির’’ নামক জায়গাটি মুযদালিফা ও মিনার মধ্যবর্তী একটি উপত্যকার নাম। উল্লেখ্য যে, বড় জামারায় পৌঁছা মাত্র তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দেবেন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • নিম্নবর্ণিত ৪টি কাজঃ

    (১) কংকর নিক্ষেপ [শুধুমাত্র বড় জামারায়],

    (২) কুরবানী করা,

    (৩) চুল কাটা

    (৪) তাওয়াফ করা অর্থাৎ তাওয়াফুল ইফাদা বা ফরয তাওয়াফ। এ দিনে না পারলে পরবর্তী ২ দিনের মধ্যে বা অন্য যে কোন সময় করলেও চলবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • বড় জামারায় ৭টি কংকর মারা। মুস্তাহাব হলো এর আগে অন্য কোন কাজ না করা।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ওয়াজিব। এটা ছুটে গেলে দম দিতে হবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ৭টি করে তিনটি জামারায় মোট (৭×৩)=২১টি কংকর।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • সূর্যোদয়ের পর থেকে কংকর মারা উত্তম। ফজরের আউয়াল ওয়াক্ত থেকে সূর্য উঠার আগেও পাথর নিক্ষেপ জায়েয আছে। দুর্বল, শিশু, নারী ও অক্ষম ব্যক্তিরা মধ্যরাত্রির পর থেকে কংকর মারা শুরু করতে পারে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ঐদিনে কংকর নিক্ষেপের উত্তম সময় হল সূর্যোদয় থেকে শুরু করে দুপুরে সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ার পূর্ব পর্যন্ত। সন্ধ্যা পর্যন্ত মারাও জায়েয আছে। কারণবশতঃ সন্ধ্যার পর থেকে ঐ দিবাগত রাতের ফজর উদয় হওয়ার আগেও যদি মারে তবু চলবে। তবে এ সময়ে মাকরূহ হবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • শর্তগুলো নিম্নরূপঃ

    (১) জামারার খুঁটিকে লক্ষ্য করে কংকর ছুঁড়ে মারতে হবে। অন্যদিকে টার্গেট করে মারলে খুঁটিতে লাগলেও শুদ্ধ হবে না।

    (২) ঢিলটি জোরে নিক্ষেপ করতে হবে। সাধারণভাবে কংকরটি সেখানে শুধু ছুয়ায়ে দিলে হবে না।

    (৩) কংকরটি পাথর হতে হবে। মাটি বা ইটের টুকরা দিয়ে হবে না।

    (৪) কংকরটি হাত দিয়ে নিক্ষেপ করতে হবে। ছেলে-মেয়েদের খেলনা, গুলাল, তীর বা পা দিয়ে লাথি মেরে নিক্ষেপ করলে হবে না।

    (৫) সাতটি পাথর হাতের মুঠোয় ভরে একেবারে নয় বরং একটি একটি কংকর হাতে নিয়ে নিক্ষেপ করতে হবে।

    (৬) ব্যবহৃত কংকর পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না।

    (৭) ওয়াক্ত হলে কংকর নিক্ষেপ করা। এর আগে পরে নয়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • এগুলো নিম্নরূপঃ

    (১) মিনায় প্রবেশ করে কংকর নিক্ষেপের আগে অন্য কিছু না করা।

    (২) কংকর নিক্ষেপ শুরু করার পূর্বে তালবিয়াহ পাঠ বন্ধ করে দেয়া।

    (৩) প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সময় ‘‘আল্লাহু আকবার’’ বলা। ডান হাতে নিক্ষেপ করা। পুরুষের হাত উঁচু করে নিক্ষেপ করা। মেয়েরা হাত উঁচু করবে না।

    (৪) কংকরের সাইজ হবে গুলালের গুলির কাছাকাছি বা চানা বুটের দানার চেয়ে একটু বড়।

    (৫) প্রথমদিন সূর্যোদয়ের পরে মারা সুন্নাত।

    (৬) দাঁড়ানোর সুন্নত হলো মক্কাকে বামপাশে এবং মিনাকে ডানে রেখে ‘জামারার’ দিকে মুখ করে দাঁড়াবে। এরপর নিক্ষেপ করবে। প্রচন্ড ভীড় হলে যে কোন দিকে দাঁড়িয়েও মারতে পারেন।

    (৭) একটা কংকর মারার পর আরেকটি মারা। অর্থাৎ দুই কংকরের মধ্যে বেশী সময় না নেয়া।

    (৮) কংকরগুলো পবিত্র হওয়া মুস্তাহাব। অপবিত্র হলেও তা দিয়ে নিক্ষেপ করা যাবে। তবে মাকরূহ হবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ওয়াজিব। এটা বাদ গেলে দম দিতে হবে। আইয়্যামে তাশরীক হল ১১, ১২ ও ১৩ই যিলহজ্জ।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • দুপুরের পর থেকে। এর আগে জায়েয নয়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • সুন্নাত হলো সূর্য ডুবার পূর্ব পর্যন্ত। তবে রাতেও মারা যাবে অর্থাৎ ফজরের পূর্ব পর্যন্ত জায়েয আছে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ঐ দিন মিনাতেই রাত্রিযাপন করা ওয়াজিব হয়ে যায়। পরের দিন ১৩ই যিলহজ্জ দুপুরের পর ৩টি জামারাকে আরো ২১টি পাথর নিক্ষেপ করে পরে মিনা ত্যাগ করতে হবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর মতে মারা জায়েয আছে। কিন্তু একই মাযহাবের তাঁরই দুজন সঙ্গী ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদের মতে দুপুরে সূর্য ঢলার আগে কংকর নিক্ষেপ জায়েয হবে না। কাজেই দুপুরের আগে নিক্ষেপ না করাই উত্তম।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • তরীকাগুলো নিম্নরূপঃ

    (১) দুপুর হলে পরে কংকর নিক্ষেপ আগে, এরপর যুহরের সালাত আদায় এভাবে সিরিয়াল করা মুস্তাহাব। (বুখারী) প্রচন্ড ভীড় থাকে বিধায় এ সিরিয়াল ঠিক রাখার চেষ্টা না করাই ভাল।

    (২) মিনার মসজিদে ‘খায়েফ’ থেকে কাবার দিকে অগ্রসর হলে প্রথমে ছোট এরপর মধ্যম এবং শেষে বড় জামরা দেখতে পাবেন। আগে ছোট ‘জামারায়’ কংকর নিক্ষেপ করে এটাকে বামে রেখে এখান থেকে একটু এগিয়ে গিয়ে কিবলামুখী হয় দাঁড়িয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়বেন এবং দু’হাত উঠিয়ে দোয়া করবেন।

    (৩) এরপর যাবেন মধ্যম ‘জামারায়’। এখানেও পূর্বের মত ‘আল্লাহু আকবার’ বলে প্রতিটি কংকর নিক্ষেপ করবেন এবং পরে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, পড়বেন এবং কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে দু’হাত উঠিয়ে আরবীতে বাংলায় যত পারেন লম্বা মুনাজাত করবেন। একাকি মুনাজাত করাই সুন্নাত।

    (৪) সবশেষে বড় জামরায় এসে ৭টি কংকর মেরে আর থামবেন না সেখানে। জামারা ত্যাগ করবেন। একই নিয়মে শেষ ৩ দিন প্রতিদিন ৭+৭+৭= ২১টি করে কংকর নিক্ষেপ করবেন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • যে কটা সন্দেহ হবে সে কটা আবার মারতে হবে। কংকর হাউজের বাইরে পড়লে ঐ পাথর পুনরায় মারতে হবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • প্রতিটি কংকরের জন্য অর্ধেক সা'আ (অর্থাৎ এক কেজি বিশ গ্রাম) পরিমাণ গম, খেজুর বা ভুট্টা দান করতে হবে। আর ঘাটতি কংকরের সংখ্যা ৩ এর অধিক হলে দম দিতে হবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • দুর্বল, রোগী, অতি বৃদ্ধ ও শিশুদের জন্য।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • (১) যিনি বদলী মারবেন তিনি একই বছরের হাজী হতে হবে।

    (২) যার পরিবর্তে বদলী মারবেন তিনি অবশ্যই অক্ষম ব্যক্তি হতে হবে।

    (৩) প্রথমে হাজী নিজের পাথর মারবেন, এরপর অক্ষম ব্যক্তির কংকর মারবেন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • না, ঠিক নয়। এ ৩টি জামারা শয়তানের প্রতিভূ বা চিহ্ন নয়। এগুলোকে পাথর নিক্ষেপ করলে শয়তানকে পাথর মারা হয়, এ কথাও ঠিক নয়। এটা একটা ভুল ধারণা ও বিভ্রান্ত আকীদা-বিশ্বাস। একটা ভুল অনুভূতি নিয়ে জামারাগুলোকে কংকর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে মানুষের ভাবাবেগের পরিবর্তন হয়ে যায়, বাড়াবাড়ি করে ফেলে। ফলে নানা অঘটনও ঘটে যায়। আসুন আমরা ভুল আকীদা পরিহার করি।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • নিম্নবর্ণিত ভুল ত্রুটি লক্ষ্য করা যায় :

    (১) ১১, ১২ ও ১৩ই যিলহজ্জ দুপুরের আগেই কংকর নিক্ষেপ করে থাকে। এ কাজটা ভুল। সময় শুরু হয় দুপুরের পর থেকে।

    (২) মুযদালিফা থেকেই কংকর কুড়াতে হবে, এ ধারণা ভুল।

    (৩) কেউ কেউ কংকর ধৌত করে থাকে। এ কাজ ঠিক না।

    (৪) ধাক্কাধাক্কি করে অন্য হাজীদেরকে কষ্ট দিয়ে কংকর নিক্ষেপ করে থাকে। এরূপ করা অন্যায়।

    (৫) ক্ষিপ্ত হয়ে কোন কোন হাজী বড় পাথর, জুতা, ছাতা ও কাঠ দিয়ে ঢিল ছুড়ে। এরূপ মারা জায়েয নয়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • হজ্জের জন্য যে পশু জবাই হয় তা হল হাদী এবং ঈদুল আযহায় যে পশু জবাই হয় সেটি হচ্ছে কুরবানী।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • এটা ওয়াজিব। হাদীকে দমে শুক্রও বলা হয়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • তামাত্তু ও কিরান হাজীদের জন্য।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • না, এক্ষেত্রে হাদী লাগবে না। এমনকি রোযাও রাখতে হবে না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • হাঁ। তারা মাক্কার বাসিন্দা বলে গণ্য হবেন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • হাদী মিনায় বা মক্কায় জবাই করা ওয়াজিব। আর কুরবানী নিজ দেশেও দেয়া যাবে। সৌদী আরব সরকারের তত্ত্বাবধানে আই.ডি.বি-র মাধ্যমে বেশ কয়েক বছর যাবৎ কুরবানী ও হাদীর পশু ক্রয়-বিক্রয়, আমদানী ও জবাই হয়ে থাকে। হাজীরা এখন এ সুযোগ নিয়ে তাদের মুয়াল্লেম বা গ্রুপ লীডারের মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে হাদীর পশু ক্রয় ও জবাইয়ের কাজ সম্পন্ন করে থাকেন। আপনিও তাই দূর-দূরান্ত, অজানা-অচেনা পথে অতীব পরিশ্রমের ঝুকি না নিয়ে পূর্বেই ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে হাদীর পশু জবাইয়ের কাজটা সহজে সেরে ফেলতে পারেন। ফলে পাথর মারা শেষ হলে আপনার পরবর্তী কাজ হবে চুল কাটা।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • মিনায় বা মাক্কায় দিতে হয়। এর মাংস শুধুমাত্র ফকীর-মিসকীনরা খাবে। দম দাতা এর মাংস খেতে পারবে না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • মাসআলাগুলো নিম্নরূপঃ

    (১) পাথর মারা শেষ হলেই পশু জবাই করতে হয়।

    (২) পশু জবাইয়ের সময় শুরু হয় ১০ই যিলহজ্জ সূর্যোদয়ের পর থেকে ১৩ই যিলহজ্জ সূর্য ডুবার পূর্ব পর্যন্ত।

    (৩) মিনা বা মক্কা উভয় স্থানেই পশু জবাই করা জায়েয।

    (৪) পশুটি নিখুঁত, ত্রুটিমুক্ত এবং প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে।

    (৫) একজন ব্যক্তি তার নিজের জন্য একাধিক হাদী ও কুরবানী জবাই করতে পারবেন।

    (৬) আবার গরু বা উট হলে এক পশুতে ৭ জন শরীক হতে পারবেন।

    (৭) জবাইয়ের সময় পশুকে কেবলামুখী করে জবাই করতে হবে।

    (৮) পশুটিকে বাম কাত করে ফেলে ডান পাশে পাঁ রেখে মজবুত করে চেপে ধরে জবাই করবেন।

    (৯) জবাইর সময় বলবেন, বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার।

    (১০) কুরবানীর গোশ্ত নিজে খাওয়া, বিতরণ ও দান করা সবই সুন্নাত এবং জমা রাখা জায়িয।

    (১১) তিন ভাগের একভাগ গোশ্ত গরীব-মিসকীনদের মধ্যে বিতরণকালে ভাগের মধ্যে পরিমাণে একটু কম-বেশী হলে অসুবিধা নেই।

    (১২) অপরিচিত সংস্থা বা অজানা অবিশ্বস্ত লোকের কাছ থেকে কুরবানীর রসিদ কাটবেন না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • এ তাওয়াফটি হজ্জের একটা রুকন অর্থাৎ ফরজ। এটা ছুটে গেলে হজ্জ হবে না। তাওয়াফে ইফাদার অপর নাম তাওয়াফে যিয়ারাহ বা ফরয তাওয়াফ।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • উত্তম সময় হলো ১০ই যিলহজ্জ ঈদের দিন কংকর নিক্ষেপ, কুরবানী করা ও চুল কাটার পর তাওয়াফে ইফাদা করা। তবে সেদিন ফজর উদয় হওয়ার পরই তাওয়াফে ইফাদার সময় শুরু হয়ে যায়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ইমাম আবূ হানিফা (রহঃ)-এর মতে ১০, ১১ ও ১২ই যিলহজ্জ-এ ৩ দিনের যে কোন দিন বা রাতে তাওয়াফে ইফাদা করে ফেলা ওয়াজিব। এ সময়ের মধ্যে না পারলে দম দিতে হবে। পক্ষান্তরে একই মাযহাবের ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদের মতে ১২ই যিলহজ্জের পরও যে কোন দিন তাওয়াফে ইফাদা করা যায়। এজন্য কোন প্রকার দম দেয়া লাগবে না, (البدائع الصنائع) এ সময়ে তাওয়াফ ও সাঈতে প্রচন্ড ভীড় হয় বিধায় বৃদ্ধ, অসুস্থ, শিশু, নারী ও অক্ষম হাজীদের দু’তিন দিন পর তাওয়াফ-সাঈ করা ভাল মনে করছি।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • উক্ত সাঈ ওয়াজিব। কেউ কেউ বলেছেন এটা ফরয। উমরার সাঈর মতই এ সাঈ। যে কোন পোষাক পরে এ সাঈ করা যায়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • এ তাওয়াফ উমরার তাওয়াফের মতই। এ বিষয়ে পূর্ববর্তী প্রশ্নোত্তর দেখুন।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • উক্ত সাঈ ওয়াজিব। কেউ কেউ বলেছেন এটা ফরয। উমরার সাঈর মতই এ সাঈ। যে কোন পোষাক পরে এ সাঈ করা যায়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবসহ অধিকাংশ বিজ্ঞ উলামাদের মতে মিনায় রাত্রিযাপন ওয়াজিব। বিনা ওজরে এটি ছুটে গেলে দম দিতে হবে। তবে হানাফী মাযহাবে এটা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। আর এ সুন্নাত ছুটে গেলে দম দেয়া লাগে না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • ১০ ও ১১ই যিলহজ্জ দিবাগত রাতগুলোতে মিনায় থাকা ওয়াজিব। ১২ই যিলহজ্জ তারিখে পাথর নিক্ষেপ শেষে সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করতে না পারলে ঐ তারিখের দিবাগত রাতেও মিনায় থাকা ওয়াজিব হয়ে যায়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • নিম্নবর্ণিত কোন এক বা একাধিক সমস্যা থাকলেঃ

    (১) সম্পদ নষ্ট হওয়ার ভয় থাকলে।

    (২) নিজের জানের নিরাপত্তার অভাববোধ করলে।

    (৩) এমন অসুস্থতা যে অবস্থায় মিনায় রাত্রি যাপন করলে তার কষ্ট বেড়ে যেতে পারে।

    (৪) অথবা এমন রোগী সাথে থাকা যার সেবা-শুশ্রুষার জন্য মিনার বাইরে থাকা প্রয়োজন।

    (৫) এমন লোকের অধীনে চাকুরীরত যার নির্দেশ অমান্যে চাকুরী হারানোর ভয় আছে, এ ধরনের শরয়ী ওযর থাকলে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • না, তবে থাকাটা উত্তম।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • অর্ধেকের বেশী সময়।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • চার রাক‘আত বিশিষ্ট ফরজ সালাতগুলো দুই রাক‘আত করে পড়বেন। তবে একত্রে জমা করবেন না। স্ব স্ব ওয়াক্তে আদায় করবেন। তবে যারা মিনাতে নিজেকে মুকীম বিবেচনা করবে তাদের ৪ রাকআত পড়ারও অবকাশ রয়েছে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • না। মেয়েলোক হলে তার সাথে পিতা, স্বামী, ভাই, ছেলে বা অন্য মাহরাম পুরুষ থাকতে হবে। দুলাভাই, দেবর, চাচাতো-মামাতো-খালাতো-ফুফাতো ভাই তথা গায়রে মাহরাম হলে চলবে না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ দিয়েই তার পরিবারের লোকেরা কাযা হজ্জ করিয়ে নিবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • অন্য কাউকে পাঠিয়ে ফরজ হজ্জ কাযা করিয়ে নিতে হবে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • না। যে ব্যক্তি কারোর বদলী হজ্জে যাবে তার নিজের হজ্জ আগে করে নিতে হবে। (আবূ দাঊদ, ইবনে মাজাহ)

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • পথেই মাগরিব এশা পড়ে ফেলবেন। যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকায় এ অনিচ্ছাকৃতি ত্রুটির জন্য কোন প্রকার দম দেয়া লাগবে না।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • না। এ ধরনের দম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম দেননি।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • হজ্জ শেষে মক্কা শরীফ থেকে যখন বিদায় নেয়ার প্রস্তুতি নেবেন তখন বিদায়ী তাওয়াফ করবেন। বিদায়ী তাওয়াফের পর মক্কায় আর অবস্থান করবেন না। এ তাওয়াফে রম্ল নেই। এ তাওয়াফ হল হজ্জের সর্বশেষ কাজ। বিস্তারিত দেখুন পূর্ববর্তী ৭ম অধ্যায়ে।

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • হায়েযওয়ালী মেয়েদের বিদায়ী তাওয়াফ করা লাগবে না। ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত ‘‘হায়েযওয়ালী মেয়েদেরকে এ বিষয়ে রুখসত দেয়া হয়েছে।’’ (বুখারী ও মুসলিম)

    আলাদা পাতায় খুলুন
  • এই প্রশ্নোত্তরগুলো শাইখ নুরুল ইসলাম মাক্কী হাফিযাহুল্লাহর বিখ্যাত বাংলা বই "প্রশ্নোত্তরে হজ্জ ও উমরাহ" থেকে হাদিস বিডি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। বইটি লেখা, প্রকাশ ও প্রচারে যারা যুক্ত ছিলেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।

    আলাদা পাতায় খুলুন